হলুদ পালক, নীল ডিম

পাখির হলুদ, নীল পালক নিয়ে গল্প করব, এমন লোক বেশি খুঁজে পাই না। মটরশুঁটির বীজপত্র ফুঁড়ে যখন কোমল চারা মাটি ঠেলে বের হয়, সেই অসীম আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব এমন কেউও হাতের কাছে নেই। একটা বাদামি মত কাগজে টালি দাগ দিয়ে তাই নিজেই হিসাব রাখি, আজ একটা চারা, কাল দুই। আজ একটা রবিন পাখির নীল ডিম, তিন দিন পর চার চারটা। বুকের ভিতরটা ভালোবাসায় ভরে ওঠে।

ভালোবাসা ছোঁয়াচে রোগ। আমার পাখির ডিম আর পালকের ভালোবাসা মহামারী আকার নিয়ে নিজের ছানাপোনাদের উপর বর্তায়। মাটির নীচে গর্ত করে চারার শিকড় কতদূর গেল তা আমি দেখতে যাই না বটে, কিন্তু নিজের ছানা পোনাদের সবকিছুতে সর্দারি করবার লোভ আমি কিছুতেই ছেড়ে দিতে পারি না। শুধু ভয় এই বুঝি কোন ক্ষতি হয়ে গেল। এই বুঝি ওদের আমাকে চাই। মা পাখি আমার থেকে বেশি বুদ্ধি রাখে। সময় হয়ে গেলে ঠেলে ফেলে দেয় বাসা থেকে। বাচ্চা পাখি উড়তে শেখে।

আমি বাদামি কাগজের টালি মার্ক দেখি। নীল ডিম...হলুদ পালক...আজ একটা অপরাজিতার চারা। কাগজ থেকে চোখ তুলতেই চোখে পড়ে কাঠের দরজার গায়েও দাগ কাটা। মোমের রঙ দিয়ে। আমার অনন্য, লাবণ্য দুই ফুট ছিল।



Comments